চুল পড়া রোধ করুন

সাধারন ভাবেই আমরা প্রতিদিন কিছু চুল হারাই। কিন্তু এই চুল পড়ার হার যদি স্বাভাবিক এর চেয়ে বেশি হয় এবং দীর্ঘ দিন ধরে চলতে থাকে, তাহলে আমাদের বিশেষ কিছু ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে চুল পড়ার এই ব্যপারটা আমাদের হাতের নাগালের বইরে চলে না যায়। এই ব্যবস্থা গুল নিয়েই আজকে আমাদের আলোচনা।

অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় আমাদের শরিরে আয়রন এর অভাবে আমাদের চুল পড়ে যায়। আয়রন এর অভাবে আমাদের দেহে লহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা কমে যায়, যা আমাদের চুলের গোঁড়ার (হেয়ার ফলিকল) জন্য খুবি গুরুত্বপূর্ণ। খুব সহজেই একটি ছোট ডায়াগনস্টিক টেস্ট এর মাধ্যমে আপনি নিশ্চিত হতে পারেন যে আপনার শরিরে লহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা কম কিনা। যদি তাই হয়, তাহলে প্রচুর পরিমানে লাল শাক, কচুর শাক খেতে হবে। এতেও যদি লহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা না বাড়ে তাহলে আয়রন ও ভিটামিন সি (শরীরে আয়রন গ্রহনে সহায়তা করে) এর সংমিস্রনে কিছু ট্যাবলেট পাওয়া যায়, তা খেতে হবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই পদ্ধতি ভাল কাজে দেয়।

ওমেগা – থ্রী (৩) ফ্যাটি অ্যাসিড চুল পড়া রোধে খুবি কার্যকর। সাধারনত বিশেষ ধরনের মাছে এই উপাদান টি থাকে। তবে সেই সব মাছ আমাদের দেশে পাওয়া যায় বলে জানা নেই (স্যামন, ম্যাকারেল ইত্যাদি)। তবে আমাদের দেশে একটি জিনিশ পাওয়া যায়, তা হল তিশির তেল। এই তিশির তেল এ প্রচুর পরিমানে ওমেগা – থ্রী (৩) ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়। তবে মনে রাখবেন, এই তিশির তেল কিন্তু মাথায় লাগানোর জন্য নয়। অথবা রান্নায় ব্যাবহার করার জন্য ও নয়। প্রতিদিন ২ চা চামচ পরিমান তিশির তেল সালাদ এর সাথে মিশিয়ে খেতে হবে। তাহলে আপনার চুল পড়া অনেক কমে আসতে পারে। ওমেগা – থ্রী (৩) ফ্যাটি অ্যাসিড ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল ফর্ম এ ও পাওয়া যায়, তবে বাংলাদেশে পাওয়া যায় কিনা নিশ্চিত নই। আপনার নিকতস্থ ফার্মেসি তে যোগাযোগ করে দেখতে পারেন।

যাদের চুল পড়ে যাচ্ছে, তারা চেষ্টা করবেন চুলে উল্টা পাল্টা কিছু ব্যাবহার না করতে। গাল ভরা বিজ্ঞাপন এ বিভ্রান্ত হবেন না। তেল, তা যত দামিই হোক, চুল এর পুষ্টি যোগাতে পারে না। হয়ত দেখতে কিছুটা সুন্দর দেখাতে পারে। সব সময় চুলে তেল দিলেও ১ ঘণ্টা রেখে স্যাম্পু করে ফেলবেন। হেয়ার স্টাইল জেল ব্যাবহার না করাই ভাল।

অনেক সময় বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যার জন্য চুল পড়ে যেতে পারে। যেমন, দুশ্চিন্তা, থাইরয়েড সমস্যা, রক্ত শূন্যতা, হৃদ রোগ এ ব্যাবহার করা ঔষধ ইত্যাদি। এই সব সমস্যা আপনার আছে কিনা, অথবা থাকলে কি করতে হবে তা আপনি আপনার জেনারেল ফিজিসিয়ান বা ফ্যামিলি ফিজিসিয়ান এর সাথে কথা বলে সেই মত চলবেন। (আপনি চাইলে স্বাস্থ্য বাংলার ফ্রী ফিজিসিয়ান সাপোর্ট নিয়ে আপনার ভেতরের কোন সমস্যার কারনে চুল পরছে কিনা তা নিশ্চিত হয়ে নিতে পারেন)।

মনে রাখবেন, সবচেয়ে বেশি চুল পড়ার ঘটনা ঘটে থাকে বংশগতির কারনে। তবে যাদের বংশে চুল পড়ার ইতিহাস আছে, তাদের ক্ষেত্রেও চুল পড়ার হার স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে উপরোক্ত পারিপার্শ্বিক অবস্থা সমুহের কারনে।

আশা করি সবাই ভাল থাকবেন।

 

Please Share:

Related posts

Leave a Comment