আলসারের ব্যাক্টেরিয়া ডায়রিয়া প্রতিরোধ করতে পারে

আলসারের কারণে যাদের পাকস্থলি ব্যাক্টেরিয়ার আস্তানা হয়ে আছে তারা ডায়রিয়াজনিত কিছু অসুখমুক্ত থাকতে পারে।

স¤প্রতি ইসরায়েলের তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা একথা জানিয়েছেন।

তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্যানি কোহেনের নেতৃত্বে একদল গবেষক বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেন। ৫৯৫ জন ইসরায়েলি সেনার ওপর পরিচালিত গবেষণাটি ‘ক্লিনিক্যাল ইনফেকসাস ডিজিজেস’ নামক একটি সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

আগের কিছু গবেষণায় জানা গিয়েছিলো, হেলিকোব্যাকটার পাইলোরি নামের ব্যাক্টেরিয়ায় আক্রান্ত হলে ডায়রিয়া সংক্রমণের আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু সা¤প্রতিক গবেষণায় এর বিপরীত ধারণা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা।

প্রকাশিত গবেষণা ফলাফলে কোহেন লিখেছেন, “আমাদের গবেষণায় ডায়রিয়াজনিত সংক্রমণের বিরুদ্ধে হেলিকোব্যাকটার পাইলোরির সক্রিয় ভূমিকা দেখা গেছে।”

উন্নয়নশীল বিশ্বে হে. পাইলোরি খুব সাধারণ একটি ব্যাক্টেরিয়া। তবে আক্রান্তদের খুব কম জনের মধ্যেই এতে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ প্রকাশ পায়। দীর্ঘদিন ধরে যারা এ ব্যাক্টেরিয়ায় আক্রান্ত তাদের পাকস্থলির ক্যান্সার ও অন্যান্য আলসারজনিত রোগ হওয়ার সম্ভবনা আছে।

কোহেনের গবেষক দল যে সেনাদের ওপর গবেষণা চালায় তাদের তিন ভাগের এক ভাগ মাঠ পর্যায়ের প্রশিক্ষণের সময় ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়েছিলো।

প্রশিক্ষণের আগে এই সেনাদের সবার রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। রক্তের এ নমুনা থেকে গবেষকরা জানতে পারেন কে কে দীর্ঘদিন ধরে হে. পাইলোরিতে আক্রান্ত।

প্রশিক্ষণের পর দেখা যায়, যারা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন তাদের ৩২ থেকে ৩৬ শতাংশ হে. পাইলোরিতে আক্রান্ত ছিলেন, কিন্তু অন্য ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণে বা অজানা কারণে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন।

এর বিপরীতে, আগে থেকেই হেলিকোব্যাকটার পাইলোরিতে আক্রান্ত ছিলেন এমন ৫৬ শতাংশের বেশি জন সেনা ডায়রিয়া জানিত কোনো সংক্রমণের শিকার হয়নি।

গবেষকরা হিসাব করেন, যে সেনারা হে. পাইলোরিতে আক্রান্ত এদের অন্তত ৬০ শতাংশের শিগেল্লা ব্যাক্টেরিয়া জনিত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা কম। এদের এশ্চেরিচিয়া কোলি ব্যাক্টেরিয়া জনিত ডায়রিয়ায়ও আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা কম।

 

ডা. রায়হান কবীর খান

Please Share:

Related posts

Leave a Comment