পহেলা বৈশাখের খাবার : জানা থাকুক ক্যালরী মান

বাঙালির উৎসব উদযাপনের সাথে খাবারের বিষয়টি বেশ ভালো ভাবে জড়িত।প্রতিটি উৎসবের জন্য রয়েছে ভিন্ন ধরনের খাবার আইটেম।বাঙালিদের নববর্ষের আয়োজনেও এর ব্যতিক্রম হয় না।

নববর্ষের ভোর থেকে শুরু হওয়া অনেক আয়োজনের একটি অংশ হল পান্তা ভাত খাওয়া। এ দিনে পান্তা ভাত অনেকেই বাহিরে দোকান থেকে কিনে খেয়ে থাকেন , তবে পরামর্শ থাকল বাসায় তৈরী পান্তা খাওয়ার।

খাওয়ার আগে যদি এর পুষ্টি মুল্য জানা থাকে তাহলে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন কতটুকু পরিমান খাওয়া উচিত হবে এবং সচেতনও থাকতে পারেবন।

পহেলা বৈশাখের মেনু: মুলত পান্তা ভাতই খাওয়া হয় সকালের দিকে। এর সাথে থাকে ইলিশ ভাজা, বেগুন ভাজা, শুটকি ভর্ভা।

পান্তা ভাত :

আমাদের দেশে পান্তা খাওয়ার রীতি অনেক পুরানো। সাধারনত কৃষক , দিনমজুর যাদের প্রচুর শারীরিক শ্রম দিতে হয় তারা সকালের নাস্তা হিসেবে পান্তা খেয়ে থাকেন। গ্রামে এখনও পান্তা খাওয়ার প্রচলন আছে।

পান্তা বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। যেমন – বাসি পান্তা, দই পান্তা, জিরা পান্তা। আমাদের দেশে বাসি পান্তাই সাধারনত খাওয়া হয়।

ভাতে পর্যাপ্ত পরিমান পানি দিয়ে সারা রাত ঢেকে রাখা হয়। এর ফলে lactic acid bacteria দ্বারা ermented হয়ে তৈরী হয় বাসি পান্তা।

পান্তা ভাতের ক্যালরী মুল্য নির্ভর করবে কি ধরনের চাল দিয়ে রান্না করা হয়েছে তার উপর। চাল ভেদে ১ কাপ ভাত থেকে ২০০- ২৪২ ক্যালরী পাওয়া যায়।

অনেকেই পান্তা ভাতের সাথে ঘি খেয়ে থাকেন। ১ টেবিল চামচ ঘি থেকে পাওয়া যায় ১১২ ক্যালরী।

দই পান্তা ও জিরা পান্তার ক্যালরী মূল্য আরও বেশি হবে কারণ এগুলো তৈরীতে ব্যবহৃত হয় যথাক্রমে টক দই ও তেল।

পান্তা ভাতের অন্যান্য পুষ্টিমুল্য:
পান্তা ভাতে আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়ামের পরিমান রান্না করা ভাতের (steamed rice) তুলনায় বেশি থাকে। অন্যদিকে সোডিয়ামের পরিমান কমে যায়। যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।এছাড়া ভিটামিন -বি ২ , ভিটামিন -বি ১২ অপেক্ষাকৃত বেশি থাকে।

ইলিশ ভাজা : ১ টুকরা ইলিশ ভাজায় (আকার ও রান্নায় ব্যবহৃত তেলের পরিমান ভেদে ) আছে ৮০-২২০ ক্যালরী।

বেগুন ভাজা : ১ টুকরা বেগুন ভাজায় (আকার ও রান্নায় ব্যবহৃত তেলের পরিমান ভেদে ) আছে ৪৪-১১৪ ক্যালরী।

শুটকি ভর্তা : মাছের ধরন, ভর্তায় ব্যবহৃত তেল ও অন্যান্য উপাদান ভেদে ১ টেবিল চামচ শুটকি ভর্তা থেকে ৭৬- ১০০ ক্যালরী (আনুমানিক) পাওয়া যায়।

পান্তা ভাতের উপকারিতা:

* দেহে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ করে দেহকে পানিশুন্যতা থেকে রক্ষা করে।
*তীব্র গরমে sun strokes বা heat stroke থেকে রক্ষা করে।

এছাড়া বিভিন্ন রকমের মিষ্টি জাতীয় খাবারের সমাবেশ থাকে সবার ঘরেই।
রসগোল্লা ১ টিতে ক্যালরী আছে ১৫০
চমচম ১টিতে ক্যালরী আছে ১৭৫
বালুসাই ১ টিতে ক্যালরী আছে ২৫০
রসমলাই ৪ টিতে ক্যালরী আছে ২৫০
জিলাপি (বড়) ১টিতে ক্যালরী আছে ২০০
পায়েশ ১০০ গ্রামে ক্যালরী আছে ১৪১
মিষ্টি দই আধা কাপে ক্যালরী আছে ২০০

চটপটি ফুসকাও তো খাওয়া হয়…
ফুসকা ১টিতে আছে ৫০ ক্যালরী
চটপটি আধা কাপে আছে ৫০০ ক্যালরী

দুপুর বা রাতের খাবারে অনেকের বাসায় থাকে খিচুরী, গরুর মাংস।
খিচুরী ১ কাপের তিন চতুর্থাংশে আছে ১৭৫-২১৫ ক্যালরী
গরুর মাংস ভুনা ১ কাপে আছে ৪৩৪ ক্যালরী
মুরগী ভুনা আধা কাপে আছে ১৩২-৩২৩ ক্যালরী
ডিম ভাজি ১ টিতে ক্যালরী আছে ৯২-১৭৫

প্রচন্ড গরমে পানিশুণ্যতা রোধ করতে তরল খাবার বেশি করে খেতে হবে। ডাবের পানি,লেবু পানি খান । গরমে খাবার খুব সহজেই নষ্ট হয়ে যায়। স্বাদ বা গন্ধের সামান্য তারতম্য হলেই সেটা খাবেন না।
কেনা খাবার বিশেষ করে পান্তা ভাত খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। কারন ব্যবসায়িক ভিত্তিতে পান্তা তৈরী করতে গিয়ে দেখা যায় ব্যবসায়ীরা ভাত অনেক আগে ভেজান এবং যথাযথ পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখেন না, ফলে ভাত বেশি পচে যায় ।এতে পেটের অসুখ এমনকি ডায়রিয়াও হতে পারে। লক্ষ্য করলে দেখবেন পহেলা বৈশাখের পরের দিন পান্তা খেয়ে অসুস্থ হবার খবর খবরের কাগজে দেখা যায়।

সবার নিশ্চয় এরই মধ্যে সব রকমের প্রস্তুতি শেষ হয়ে গেছে। এবার শুধু বর্ষকে বরণ করার পালা।
সবাই সুস্থ থাকবেন।
নববর্ষের অগ্রিম শুভেচ্ছা রইল।

Please Share:

Related posts

Leave a Comment