এবার হাসুন প্রাণ ভরে

আহা! হাসিতে যেন মুক্তা ঝরে। যুগে যুগে কবি সাহিত্যিকরা কত মনোরম হাসিরই না বর্ণনা দিয়েছেন। সেই হাসির কথা ভাবলেই চোখের সামনে ভেসে উঠে দুপাটি সুগঠিত দন্তরাশি। ভুবন ভোলানো হাসি সত্যিকার অর্থেই মোহনীয় সৌন্দর্য্য। মুখের সৌন্দর্যের একটা বড় অংশ  দাঁত।

কিন্তু এই দাঁতের জন্যেই কত জন প্রাণ খুলে হাসতে পারেন না। বিশেষ করে সামনের পাটির ওপর ও নিচের দুটি দাঁতের ফাঁকা, অসমান এবড়ো থেবড়ো দাঁত মানুষকে হীনমন্যতায় ভুগিয়ে থাকে। হাসার সময় আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়। অনেক কারণে দাঁতের মধ্যবর্তী স্থান ফাঁক হয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য-

দন্তক্ষয় রোগে আক্রান্ত দাঁতে প্রদাহ জনিত কারণে,নিয়মিত ঔষধ সেবনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মাড়ি ফুলে গিয়ে থাকলে, কখনও দাঁতে আঘাত লাগলে ধীরে ধীরে দাঁতের গোড়ায় পুঁজ জমে, ডায়াবেটিস এর কারণে মাড়িতে ঘন ঘন প্রদাহ এসব নানা কারণে দাঁত মাড়ি থেকে সরে গিয়ে ফাঁকা হয়ে যেতে পারে। আরও একটি গুরুত্বর্পূণ কারণ আছে তা হল অনেকের উপরের পাটির দুটি দাঁতের মাঝে ফ্রেনাম নামক টিস্যু বাড়তি অবস্থায় থাকে সেটি একসময় দুই দাঁতকে সরিয়ে মাঝে ঢুকে পড়ে ফলে দাঁত ফাঁকা হয়ে যায়। মুখের সৌন্দর্য্যরে জন্য হানিকর এই বিষয় নিয়ে কথা হয় বারডেম হাসপাতালের ডেন্টিস্ট অধ্যাপক ডঃ অরুপ রতন চৌধুরীর সাথে। তিনি আধুনিক চিকিৎসায় এটিকে সৌন্দর্য্যমন্ডিত করার কিছু পদক্ষেপের কথা জানালেন।

দন্ত রোগ বিশেষজ্ঞ অরুপ রতন চৌধুরী বলেন দাঁতের ফাঁক জনিত চিকিৎসা তিন ভাবে করা যায়।

১.বন্ডিং- এই পদ্ধতিতে প্রথমে এক্সরের মাধ্যমে দাঁতের অবস্থান নির্ণয় করা হয়। যদি দাঁতের গোড়ায় কোন প্রদাহ বা পুঁজ না থাকে এবং ফাঁকা ৩/৪ মি.মি এ বেশি না হয় তবে ডেন্টাল ফিলিং এর মাধ্যমে দাঁতের  রঙের এর সাথে মিলিয়ে ফিলিং করে দেয়া হয়। এতে করে ফাঁকা দাঁতের উপস্থিতি বোঝা যায় না।

২.পরসেলিন ক্রাউনঃ- পরসেলিন ক্রাউন এক ধরনের ক্যাপ। অনেক সময় দুই দাঁতের মধ্যবর্তী ফাঁকা ৪/৫ মি.মি এর বেশি হয় তখন পরসেলিন ক্রাউন বা মুকুট পরে নিলে ফাঁকা অংশটুকু ভরাট হয়ে যায়।

৩.অর্থডনটিক চিকিৎসাঃ- একটি বা দুটি দাঁত যদি তার স্বাভাবিক অবস্থান থেকে উঁচুতে নিচুতে বা দুরে থাকে তখন অর্থডনটিক চিকিৎসার মাধ্যমে দাঁতকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়।

ডাক্তারের পরামর্শ মত আপনার হাসিকে প্রাণোবন্ত করে তুলুন।

আর সুস্থ দাতের জন্য প্রতিদিন ২ বার ব্রাশ করুন। যে কোনো সমস্যা দেখা দিলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

 

বছরে একবার নিয়মিত দাঁতের ডাক্তার দেখান।

সুন্দর হাসিতে জয় করুন সবার মন, হয়ে উঠুন আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী।

 

লিখেছেনঃ প্রীতি ওয়ারেছা

Please Share:

Related posts

Leave a Comment