মোবাইল হবে এবার বিশ্বে স্বাস্থ্য উন্নয়নের অন্যতম হাতিয়ার

পশ্চিমা বিশ্বে মোবাইল ফোনের জনপ্রিয়তা খুব বেশি দিনের নয়। আর বাংলাদেশে এই সময়টা আরও কম। ইতিমধ্যে পৃথিবীর ৭০০ কোটি মানুষের প্রায় ৪৫০ কোটির হাতে পৌঁছে গেছে মোবাইল ফোনের সিম। আর বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশে মোবাইলের ঘনত্ব এখন প্রায় শতকরা ৪০ ভাগ, অর্থাৎ প্রতি পাঁচজন মানুষের মধ্যে অন্তত দুজনের রয়েছে মোবাইল ফোন।

এই মোবাইল ফোন প্রযুক্তি স্বাস্থ্য খাতের জন্য হতে পারে এক বিস্নয়কর ও কার্যকর হাতিয়ার। আর তাই চার দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে মোবাইল ফোন ও উন্নত বিশ্ব স্বাস্থ্য।

স্বাস্থ্যসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয়ে আলোচনা হয় এই সম্মেলনে। এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল কীভাবে নতুন নতুন প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে মানুষকে নানা রোগ থেকে মুক্ত করা যায়। গত কয়েক দিনে নানা দেশের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আকারে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে মোবাইল ফোন ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে স্বাস্থ্যব্যবস্থায় এক চমকপ্রদ পরিবর্তন আসছে। এর মধ্যে রয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান ও রুয়ান্ডা, রক্ষণশীল পাকিস্তান, উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তি ভারতও। এ সব দেশে ইতিমধ্যে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য বিষয়ে নানা উপাত্ত সংগ্রহসহ টেলিমেডিসিনের ব্যাপক সফলতা পাওয়া গেছে। ই-হেলথ ধারণাকে পরিচিত করতে এ সব দেশে ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ। এ থেকে আশাবাদী হয়ে উঠেছে অন্যান্য দেশ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

আফগানিস্তানের মোবাইল কোম্পানি সোহানে কর্মরত কোহিনুর খোকা প্রথম আলোকে বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত ও প্রাকৃতিকভাবে দুর্গম আফগানিস্তানে টেলিমেডিসিন এক অভাবনীয় সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। তিনি বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া খুবই কঠিন। রয়েছে চিকিৎসক ও নিরাপত্তার অভাব। আফগানিস্তানে এখনো প্রতি এক লাখ মানুষের জন্য চিকিৎসক আছেন মাত্র একজন।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক রকফেলার ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ প্রসঙ্গে বলেন, ইতিমধ্যেই মোবাইল ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে কীভাবে স্বাস্থ্যব্যবস্থার আরও উন্নতি করা যায়, সে জন্য ব্যাংককে একটি সেন্টার খোলার চেষ্টা করছেন তাঁরা। তিনি বলেন, মোবাইল প্রযুক্তি ব্যবহার করার জন্য দেশে দেশে স্বল্পমেয়াদি অনেক প্রশিক্ষণের প্রয়োজন পড়বে। দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে না পারলে ই-হেলথ সফল করা কঠিন হবে।

পেরুর এক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, তাঁর দেশে ইন্টারনেটের মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিষয়ক কার্যক্রম খুবই জনপ্রিয় হয়েছে। তিনি বলেন, পেরুতে পাড়ায় পাড়ায় সাইবার ক্যাফে থাকায় *****বৃদ্ধবনিতা সবাই ইন্টারনেট ব্যবহার করে। আর সরকার এই সুযোগ নিয়ে ইন্টারনেটকে স্বাস্থ্য উন্নয়নে কাজে লাগাচ্ছে। মোবাইল ফোনের নানামুখী ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বার্ড ফ্লু ও সোয়াইন ফ্লু প্রতিরোধে মোবাইল ফোনের গুরুত্ব রয়েছে।
সূত্রঃ প্রথম আলো।


Please Share:

Related posts

Leave a Comment