চিকুনগুনিয়া

#মূল শব্দ:

১। চিকুনগুনিয়া হচ্ছে ভাইরাসজনিত রোগ, যা মানুষ থেকে মশার দ্বারা স্থানান্তরিত হয়।এ ভাইরাসের কারনে জ্বর এবং বিভিন্ন জয়েন্টে ব্যাথা হয়ে থাকে।এছাড়াও মাংশপেশিতে ব্যাথা, মাথাব্যাথা, বমি করা, ক্লান্তি অনুভব এবং ফুসকুড়ি হয়ে থাকে।
২। জয়েন্টের ব্যাথা দূর্বল হলেও স্থায়িত্ব অনেক বেশি।
৩। এ রোগে ডেঙ্গু এবং জিকার মতন কিছু ক্লিনিক্যাল চিহ্ন আছে।
৪। এ রোগের নির্দিষ্ট কোনো ভ্যাক্সিন নেই,সুস্থতার জন্য উপসর্গ গুলোকে ফোকাস করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
৫। মানুষের আবাসস্থলের আশেপাশে মশার বসবাস চিকনগুনিয়া হওয়ার একটা গুরুত্বপূর্ণ কারন।
৫। প্রধানত চিকনগুনিয়া হয়ে থাকে আফ্রিকা,এশিয়া এবং ভারতবর্ষে।২০১৫ সাল থেকে বিভিন্ন দেশে এর ব্যাপক প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে।

 

চিকনগুনিয়া হচ্ছে মশা বাহিত ভাইরাস রোগ যার ১ম প্রাদুর্ভাব হয়েছে ১৯৫২ সালে তানজেনিয়ার দক্ষিণ এলাকায়।এটা একটা RNA ভাইরাস যা আলফা ভাইরাসের অন্তর্ভূক্ত।এ “Chikungunya” শব্দটা এসেছে কিমাকোনডি(kimakonde) ভাষা থেকে যার অর্থ”to become contorted”

 

চিহ্ন এবং লক্ষণ:
চিকনগুনিয়ার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে জয়েন্টের ব্যাথা সহ হঠাৎ করে পুনঃপুন জ্বর হওয়া। এবং অন্যান্য সাধারণ যে উপসর্গ আছে সে গুলো হচ্ছে মাংশপেশির ব্যাথা, মাথাব্যাথা, বমি হওয়া, ক্লান্তি অনুভব করা ফুসকুড়ি পড়া।
জয়েন্টের ব্যাথা কম হলেও এটার স্থায়িত্বকাল কয়েকদিন অথবা কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত থাকে।ফলে অবস্থা সংকটাপন্ন হয়।
অধিকাংশ রুগি সুস্থ হলেও কারো কারো ক্ষেত্রে কিছু জয়েন্টের ব্যাথা অবিরাম চলতে থাকে কয়েক মাস এমনকি বছর পর্যন্ত।
আকস্মিকের কারনে চোখ,ব্রেন এবং হর্টের জটিল অবস্থা হতে পারে।
সাধারণত এ রোগে মারাত্মক কোন ক্ষতি হয় না কিন্তু নবজাতক শিশু এবং বৃদ্ধমানুষদের ক্ষেত্রে একটু সচেতন থাকতে হবে।না হলে এ রোগ মৃত্যুর কারন হয়ে দাঁড়াবে।

স্থানান্তর:
এশিয়া,আফ্রিকা,ইউরোপ এবং আমেরিকার ৬০এর অধিক দেশে চিকনগুনিয়া চিহ্নিত করা হয়েছে।
এ ভাইরাসটা স্থানান্তরিত হয়ে থাকে মানুষ থেকে মানুষে,Aedes aegypti & Aedes albopictus নামক স্ত্রী মশার মাধ্যমে।
এ মশা গুলো দিনে দংশন করে থাকে বিশেষ করে,খুব ভোরে এবং সন্ধ্যায়।
সাধারণত মশা দংশনের ৪-৮ দিন পরে অসুস্থতা শুরু হয়,তবে এর সময়কাল ২-১২ দিন।

 

রোগ নির্ণয়:
সেরোলজিক্যাল(যেমন:ELISA-Enzyme Linked Immunosorbent Assays), IgM & IgG anti-chikungunya antibodies(may confirm the presence) ইত্যাদি পরীক্ষা করে চিকনগুনিয়া শনাক্ত কারা যায়।
IgM antibody লেভেল খুব উচ্চ কারন অসুস্থ হবার ৩-৫ সপ্তাহ পরেও IgM antibody পাওয়া যায়।
উপসর্গ গুলো দেখা দেওয়ার ১ম সপ্তাহ পরেও নমুনা সংগ্রহ করে সেরোলজিক্যাল(serological) এবং ভিরোলজিক্যাল( virological) পদ্ধতিতে পরীক্ষা করা যায়।
সম্ভবত সংক্রমকের ১ম কয়েকদিন ভাইরাসটা রক্ত থেকে আলাদা থেকে বিভিন্ন ট্রান্সক্রিপটেসকে উল্টো দিকে পাঠায়।PCR(Polymerase ChainReactio) পদ্ধতিতে কিন্তু এর সংবেদন খুবই পরিবর্তনশীল। কিছু উপযুক্ত উপাদান(RT-CPR) গুলো আলাদা থাকে ভাইরাসের বিভিন্ন genotyping এ ব্যবহৃত নমুনা গুলো থেকে।এ ভাইরাস গুলোকে বিভিন্ন ভৌগলিক উৎসের সাথে তুলনা করা হয়ে থাকে।

 

চিকিৎসা :
চিকনগুনিয়া চিকিৎসার জন্য কোন নির্দিষ্ট এন্টিভাইরাল ঔষুধ নাই।চিকিৎসা সরাসরি প্রাথমিকভাবে দেওয়া হয়ে থাকে।এখনও পর্যন্ত চিকনগুনিয়ার কোন ব্যাণিজিক ভ্যাক্সিন তৈরী হয় নাই।

 

প্রতিরোধ এবং নিয়ন্ত্রণ :
আমাদের আবাসস্থলের আশেপাশে মশা উৎপাদনে চিকনগুনিয়া হওয়ার অন্যতম কারন।মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার করতে হবে।জমে থাকা অপ্রয়োজনীয় পানি ফেলে দিতে হবে যেমন-ছাদের পানি,ফুলের টপের পানি,কন্টেইনারের পানি,নারিকেলের খোসার পানি,গাড়ির টায়ারে জমা পানি,ইত্যাদি।এমনকি ড্রেনের ময়লা পানি অপসারনের ব্যবস্থা করতে হবে এবং ঢেকে রাখতে হবে।বিভিন্ন কিটনাশক ব্যবহার করেও মশা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
চিকনগুনিয়ার উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে হলে এমন জামা কাপড় পরিধান করতে হবে যেন সমস্ত দেহ ঢাকা থাকে।ঘুমানোর সময় প্রত্যেককে মশারি ব্যবহার করতে হবে বিশেষ করে চিকনগুনিয়া রুগিকে।এছাড়া মশার কয়েল অথবা বাষ্পিভূত হওয়া কিটনাশক ব্যবহার করলে মশার উপদ্রব কমে যায়।

কোথাও বেড়াতে যাওয়ার আগে ঐ জায়গায় Aedes aegypti & Aedes albopictus মশার ঘনত্ব কেমন তা জেনে রাখতে হবে।যদি মশার ঘনত্ব বেশি থাকে তা হলে না যাওযায় ভালো।একান্তই তা সম্ভব না হলে ঐ জায়গায় অবস্থানের পূর্বে মশা নিধন ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।

মশা নিধনের জন্য সমাজের সবার এগিয়ে আশা খুবই প্রয়োজন।।

Please Share:

Related posts

Leave a Comment