সেক্সচুয়াল ডিসফাংশনঃ দাম্পত্য জীবনের এক নিঃশব্দ আততায়ী

সেক্সচুয়াল ডিসফাংশনঃ দাম্পত্য জীবনের এক নিঃশব্দ আততায়ী

রফিক – উল – আলম স্বপন।

দাম্পত্য জীবনে নারী’র সহবাসে অনীহা, মিলনে অনাকাঙ্খা (Female Sexual arousal Disorder) বা পুরুষের যৌনদূর্বলতা এমন বিষয়গুলোকে আমরা অনেকেই খুব একটা পাত্তা না দিলেও, নিজেদের অজান্তেই এক সময়ের ছোট্ট এমন একটি সমস্যা অনেক ক্ষেত্রেই দাম্পত্য জীবনের ঝলমলে জোস্নাস্নাত আকাশ’টিকে অমাবস্যার ঘোর অমানিশায় ছেয়ে ফেলে। অথচ গতিময় জীবনে এধরণের ছন্দ পতন খুব যে অস্বাভাবিক একটি ব্যাপার, মোটেও তা কিন্তু নয় । এটি লজ্জারও কোন বিষয় নয়। এ নিয়ে ভাবনার’ও কিচ্ছু নেই। শুধু মনে রাখতে হবে, এটাও একটা সমস্যা, অনেকাংশেই যার অতি সহজ সমাধানও রয়েছে।

নারী’র তুলনায় পুরুষের ক্ষেত্রে মিলনে অনাকাঙ্খা বিরলই বলা চলে। তবে পুরুষের মূল সমস্যা নানা ধরণের ‘যৌনদূর্বলতা’ যা দাম্পত্য জীবনের সমস্ত সুখকে নিমিষেই ছিনিয়ে নিতে পারে – স্বামী-স্ত্রী উভয়ের ক্ষেত্রেই দাম্পত্য জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলতে পারে। পুরুষের মূল সেক্সচুয়াল সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে- প্রিম্যাচিউরড্ ইজাকুলেশন (সঙ্গম পূর্ণতা প্রাপ্তির আগেই বীর্যোস্খলন), ইরেক্টাইল ডিসফাংশন বা ED(পুরুষাঙ্গের উত্থান বা সম্ভোগযোগ্য সবল না হওয়া) এগুলো কিন্তু পুরুষের ক্ষেত্রে একধরণের সেক্সচুয়াল অক্ষমতা, যা তার সঙ্গিনী কে ধীরে ধীরে তার থেকে অনেক দূরে ঠেলে দিতে পারে।

আর নারী পুরুষ উভয়ের এমন সেক্সচুয়াল ডিসফাংশন বা সেক্সচুয়াল এ্যারুসাল ডিসঅর্ডারের ক্ষেত্রেই রয়েছে নানা শারীরিক (Diabetes, Heart disease, Rheumatic Fever, Neurological & nerve diseases, Hormonal imbalance, Chronic diseases such as kidney disease or drug abuse, Side effects of certain medications) এবং Psychological বা মনস্তাত্ত্বিক কারণ (The worries of pregnancy, Stress and Anxiety, concern about Sexual Performance, Marital or Conjugal Relationship problems, depression, feelings of guilt, and the effects of a past sexual trauma)। সুতরাং, প্রকৃত কারণটি খুঁজে বের করে উপযুক্ত চিকিৎসা করলেই এই অভিশাপ (!) থেকে মুক্ত হয়ে আবার জীবন মধুময় হয়ে উঠতে পারে।

প্রতিটি সফল যৌন মিলন দাম্পত্য জীবনে এক অপার মানসিক সুখ বা তৃপ্তি এনে দিয়ে পরস্পরকে আরো মধুর দৃঢ় এক আত্মিক বন্ধনে আবদ্ধ করে। আর তাই নারী বা পুরুষ এধরনের সমস্যা উপলব্ধি করা মাত্রই তা হেলাফেলা না করে অতি দ্রুত এবিষয়ে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

লেখকঃ
হেলথকেয়ার কন্সালট্যান্ট ও প্রধান নির্বাহী ‘মেডিট্রেইন’
ইমেইলঃ [email protected]

Please Share:

Related posts

Leave a Comment