বডি পিয়ার্সিং যখন সৌন্দর্যের উৎস

বডি পিয়ার্সিং অথাৎ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছিদ্রকরণ। আর এই ছিদ্রকরণের উদ্দেশ্য হল নান্দনিক সব অলংকার পরিধান করা সেইসাথে চেহারার সৌন্দর্য্য বর্ধন। সৌন্দর্য্য চর্চার অন্যতম একটা অংশ হিসাবে সারাবিশ্বের সর্বসাধারণের কাছে স্বীকৃত এবং নন্দিত এই ছিদ্রকরণ প্রথা। যুগে যুগে এই প্রথা চলে এসেছে আমাদের বাঙ্গালি সংস্কৃতির অংশ হিসাবে। আমাদের সংস্কৃতিতে নাক এবং কান ছিদ্রকরণ ব্যাপকভাবে সমাদৃত। এক্ষেত্রে নাক কানের বিভিন্ন জায়গায় একাধিক ছিদ্র করার চিত্রও চোখে পড়ে। ফ্যাশন সচেতন মেয়েরা তাদের লাইফস্টাইলে আনতে চায় নিত্যনতুন উপাদান এজন্য তাদের ফ্যাশন ভাবনা প্রতিনিয়ত চেঞ্জ হয়। ফ্যাশন নিয়ে তাদের বৈচিত্রময় ভাবনা মাথায় রাখলে কিংবা হালের ফ্যাশন ট্রেন্ড একটু খেয়াল করলে আমরা আরো ব্যাপকভাবে শরীর ছিদ্রকরণের নমুনা দেখতে পাব। নাক কান ছাড়াও ভ্রু, ঠোঁট, জিহবা, থুতনি,নিপল, নাভিতে ছিদ্র করার প্রথা নজর এড়িয়ে যায় না। অদ্ভুত সব জায়গায় ছিদ্র করার ফ্যাশনটা যদিও অন্য সংস্কৃতি থেকে ধার করা। তবে আমাদের দেশের বসবাসকারী আদিবাসীদের মধ্যেও শরীরের অসংখ্য স্থানে ছিদ্র এবং অলংকার পরিধান করার রেওয়াজ দেখা যায়। ছিদ্রকরণ এই বিষয়টা এখন শুধু মেয়েদের মাঝেই সীমাবদ্ধ নাই। রাস্তাঘাটে হরহামেশাই আমাদের চোখ আটকে যায় বাঙ্গালি ছেলেদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে অলংকারে সজ্জিত দেখলে। ধাতস্থ হতে যদিও সময় লাগে তারপরেও ফ্যাশন সবার জন্যেই। ফ্যাশন সচেতন নারী কিংবা পুরুষমাত্রেই চায় বৈচিত্রময়ভাবে ও অনন্যরুপে প্রিয়জনের কাছে নিজেকে উপস্থাপন করতে।

গ্রামে গঞ্জে নাক কান ফুটাতে এখনো সুঁই সুতাই প্রধান যন্ত্র। এক্ষেত্রে তারা কেউই কোনপ্রকার স্বাস্থ্য সেবা নিতে কোথাও যান না। কোন ইনফেকশন হলে রসুন আর সরিষার তেল একসাথে ফুটিয়ে গরম গরম সেই স্থানে লাগান। ক্ষতস্থানে সেই তেল কতটুকু উপকারী কিংবা স্বাস্থসম্মত সেটা রীতিমত বিতর্কিত বিষয়। গ্রামের মানুষজন নিজেদের টোটকা চিকিৎসা ব্যবস্থাই এক্ষেত্রে প্রয়োগ করে থাকেন। যেন বিষয়টি হাত পা কেটে যাওয়ার মত একটা ব্যাপার। তেল লাগাক আর নাই লাগাক ক্ষতস্থান নিয়ে কিছুদিন ভোগান্তির পর হয়ত সেটা আপনাআপনিই আয়ত্ত্বে চলে আসে। তবে সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন যারা শহরে বাস করেন। শহরে বসে যারা শরীরে ছিদ্র করার বাসনা লালন করছেন তারা চাইলেই যেতে পারেন নিকটস্থ কোন পার্লারে কিংবা ডাক্তারের ক্লিনিকে। পার্লার এবং ক্লিনিকে এই কাজে অভিজ্ঞজনেরা ছিদ্র করার স্থানটি এনেসথেসিয়া করে বডি পিয়াসিং গান এবং পিয়ার্সিং কিটস্‌ এর মাধ্যমে ছিদ্র করে থাকেন। পাশাপাশি ক্ষতস্থানে ইনফেকশন যাতে না হয় সেজন্য তারা প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। স্যেন্দর্য্য চর্চা একেবারে মানসিক প্রশান্তির একটা জায়গা। মানুষ অন্যের জন্য না নিজের প্রফুল্লতার জন্যেই সৌন্দর্য্য চর্চা করে থাকে। সৌন্দর্য্য সম্পৃক্ত কোন কিছুই যেন স্বাস্থ্যহানীর কারণ না হয় এটা অবশ্যই মনে রাখতে হবে।

প্রীতি ওয়ারেছা

Please Share:

Related posts

Leave a Comment