শীতকালেও তরতাজা সজীব ঠোঁট

প্রীতি ওয়ারেছা

গোলাপের পাঁপড়ির মতো ঠোঁট। কমলার রোয়ার মতো ঠোঁট -কত যে উপমা! ঠোঁটকে আরো রহস্যময় করতে কত যে প্রসাধনের ব্যবহার! চেহারাকে আবেদনময় করতে ঠোঁটকে প্রতিনিয়ত নতুন রূপে উপস্থাপন করার প্রয়াস! ঠোঁট আমাদের সৌন্দর্য্যরে অন্যতম একটি অংশ। ঠোঁট মিউকাস মেমেব্রেন দ্বারা আবৃত। ঠোঁটে কোন তৈল গ্রন্থি থাকে না। এখন শীতকাল। সারাবছর ঠোঁটের যত্ন নিয়ে তেমন একটা না ভাবলেও এখন ঠোঁট নিজেই এখন উপযাচক হয়ে আমাদের ভাবাচ্ছে। ঠোঁটের ত্বক ভীষণ স্পর্শকাতর এবং নরম। ঠান্ডা, গরম, সূর্যরশ্মি , দূষণ সবকিছুই ঠোঁটের জন্য ক্ষতিকর। শীতকালে ঠোঁটের যন্ত্রনায় ভোগেননি এমন মানুষ পাওয়া যাবেনা। কারণ হলো শীতের বৈরি আবহাওয়ায় ঠোঁটের ত্বক তার স্বাভাবিকত্ব হারিয়ে ফেলে। হয়ে পড়ে লাবন্যহীন ও নিষ্প্রাণ। শুষ্ক হয়ে যাওয়ার কারণেই ঠোঁট চিরচিরে হয়ে ফেটে যায়। চামড়া উঠতে থাকে। শীতের যন্ত্রনাদায়ক এই অনুভূতি থেকে রেহাই পেতে অবশ্যই ঠোঁটের যত্ন নিতে হবে।

বদঅভ্যাস দুরে রাখুন: মানুষের কিছু কিছু বদঅভ্যাস ঠোঁটকে পীড়া দিয়ে থাকে। শীতকালে ত্বক যারপর নাই পানিশূণ্য হয়ে পড়ে। কথা বলতে গেলে অথবা হাসতে গেলেই টের পাওয়া যায় ঠোঁটের শোচনীয় অবস্থা। তখন শুষ্ক ঠোঁট নিয়ে কি করবেন না করবেন ভেবে পান না। চলতে ফিরতে নানান কাজে আপনারা যখন বাড়ির বাইরে থাকেন তখন আপনাদের বেশিরভাগই ঠোঁট যত্নের প্রয়োজনীয় উপাদান সঙ্গে রাখেন না। এ অবস্থায় অনেকেই আছেন ঠোঁটের শুষ্কতা কমাতে জিব দিয়ে ঠোঁট জোড়া ভিজিয়ে নেন। সমস্যার শুর“টা হয় এখান থেকেই। কিছুক্ষনের মধ্যেই ঠোঁট আরো শুষ্ক হয়ে ওঠে। তবে ঠোঁটের চামড়া দাঁত দিয়ে অথবা হাত দিয়ে টেনে তোলা উচিত না। ঠোঁটের চামড়া অত্যন্ত নরম। বারবার চামড়া টেনে তোলার ফলে ঠোঁটে দীর্ঘ¯’ায়ী ক্ষত হয়ে যায়। ছোপ ছোপ দাগ পড়ে। আবার নারী পুর“ষ নির্বিশেষে অনেকেই আছেন ধুমপায়ী। ধূমপানের ফলেও ঠোঁট শুষ্ক হয় এবং ফেটে যায়। এছাড়া গরম চা কফি পান করেন তাদের ক্ষেত্রের এই সাবধানতা জর“রী। অতিরিক্ত গরম চা কফি পান ঠোঁটের সুস্বাস্থ্যের জন্য মোটেও ভালো না। বদঅভ্যাস গুলোকে খুব সচেতনভাবে মোকাবেলা করতে হবে। কারণ আমরা নিজের অজান্তিতেই এসব করে থাকি।

ঠোঁটের যত্ন: ঠোঁটকে সুন্দর ও মসৃণ রাখতে শীত আসার আগে থেকেই আমাদের যত্ন নিতে হবে। দিনে কমপক্ষে ৩-৪ বার ইমোলিয়েন্ট, পেট্রোলিয়াম জেলি, প্লিসারিন, চ্যাপস্টিক অথবা তৈলাক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা জর“রী। মেয়েদের ক্ষেত্রে দেখা যায় তারা সারাবছর লিপগ্লস বা লিপস্টিক ব্যবহার করে থাকেন। ঠোঁটে ব্যবহারের উপাদান ভাল মানের না হলে ঠোঁটে অ্যালার্জি এমনকি ঠোঁট কালোও হয়ে যেতে পারে। শীতকালে ম্যাট লিপস্টিক ব্যবহার করবেন না। ওয়েলবেসড্ লিপস্টিক ব্যবহার আপনাকে ভাল অনুভব দেবে। ঠোঁট ফাটা এবং ঠোঁটের কালো ভাব দুর করতে আমরা নিম্নোক্ত কিছু টিপস্ কাজে লাগাতে পারি।

১.কাটবাদাম বাটা এবং দুধের সর একত্রে লাগালে ঠোঁট হয়ে উঠবে নরম সুন্দর।
২. ঠোঁটের ন্যাচারাল ময়েশ্চারাইজার হিসেবে মাখন খুবই ভাল। ঠোঁটকে নরম রাখতে মাখনের জুড়ি নেই।
৩.গোলাপের পাঁপড়ি ও গ্লিসারিন মিশিয়ে লাগালে ঠোঁটের কালো ভাব চলে যায়।
৪.রাতে শোবার আগে বিট অথবা লেবুর রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে ঠোঁটে লাগালে ঠোঁটের কালো ভাব দুর হয়।
৫.রাতে শুতে যাওয়ার আগে নারিকেল তেল,চন্দন বাটা ও গোলাপ জল একত্রে ঠোঁটে লাগাতে পারেন।
৬.সাবান অথবা ফেসওয়াস আপনার ঠোঁটের ত্বকের জন্য সঠিক কিনা সেটা বুঝে নিন।
৭. ভিটামিন বি’ সমৃদ্ধ শাক সবজি, ফলমূল এবং প্রচুর পানি পান করতে হবে।
৮.প্রতিবার টুথব্রাশের সময় পেষ্ট ঠোঁটে লেগে যায়। টুথপেস্টটি আপনার ঠোঁটের জন্য উপযোগী কিনা সেটা যাচাই কর“ন। সাধারণত সাদা রঙের টুথপেস্ট ঠোঁটের জন্য ভাল হয়।
৯.গ্লিসারিন ,অলিভ ওয়েল, মধু, গোলাপজল একত্রে লাগালে ঠোঁটের উজ্জ্বলতা ফিরে আসবে।
১০.মুলতানি মাটি, মধু ও কাঁচা দুধ মিশিয়ে লাগালে ঠোঁটের কালচে ভাব দুর হয়।
১১.চালের গুড়া পানিতে মিশিয়ে ঠোঁটে লাগান। আস্তে আস্তে ঘষে ঠোঁটের মরা চামড়া তুলে ফেলুন।
১২. বাইরে যাওয়ার সময় ঠোঁটে সানস্ক্রিন লাগাতে ভুলবেন না।
১৩.লিপস্টিক লাগানোর আগে লিপজেল লাগিয়ে কিছুক্ষন পর টিস্যু দিয়ে মুছে নিন। তারপরে ভিটামিন-ই সমৃদ্ধ লিপস্টিক ব্যবহার কর“ন।
১৪.শসা ও পাতিলেবুর রস একত্রে নিয়মিত লাগালে ঠোঁটের কালচে ভাব দুর হয়।
১৫.ময়দা,লেবুর রস ও দুধ মিশিয়ে ১০ মিনিট ঠোঁটে লাগিয়ে আঙ্গুল দিয়ে অস্তে ঘষে ঘষে ধুয়ে নিন। সপ্তাহে দুদিন এই টিপস্ অ্যাপ্লাই করলে মরা চামড়ার হাত থেকে রেহাই পাবেন।

নিয়মিত ঠোঁটের চর্চা এই শীতেও ঠোঁট শুষ্ক হওয়ার কবল থেকে আপনাকে নিরাপদে রাখবে। সৌন্দর্য চর্চা একান্তই নিজের কাছে সুন্দর একটি অনুভব, পাশাপাশি সবাই মনে মনে চান প্রিয়জনের কাছে মুগ্ধতা আদায় করতে। নিত্যদিনের ব্যস্ত সময় থেকে মাত্র কয়েক মিনিট সময়তো চাইলে আপনি বের করতেই পারেন। এমন তো কিছু না! অবসরের কত সময় তো আমরা টিভি দেখেই কাটিয়ে দেই। একটু সচেতনতা, নিজের প্রতি একটু ভালবাসা প্রিয়জনের কাছে আপনাকে অনিন্দ্য সুন্দর করে তুলতে পারে। সুন্দর থাকুন সবসময়।

প্রীতি ওয়ারেছা

Please Share:

Related posts

Leave a Comment