ফুসফুসের ক্যান্সার (Lung Cancer)

অন্যান্য অঙ্গে ক্যান্সার হবার চেয়ে তুলনামুলক ভাবে ফুসফুসে ক্যান্সার হবার হার একটু বেশী। কারন আর কিছু নয়, ফুসফুসের উপর প্রতিনিয়ত অত্যাচার চালানোই এজন্য দায়ী। আমাদের চারপাশের পরিবেশে ক্যান্সার হবার মতো যতো উপাদানই থাকুকনা কেনো জেনে হোক বা না জেনে হোক প্রায় সবকিছুই আমরা শ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসে ঢুকিয়ে দেই, তা ছাড়াও শরীরের অন্য কোথাও ক্যান্সার হলে সেখান থেকেও রক্তের মাধ্যমে ফুসফুসে তা চলে আসার সম্ভাবনা খুব বেশী, তাই ফুসফুসে তো ক্যান্সার হতেই পারে, তাইনা?

সাধারনত যারা খুব বেশী ধুমপান করেন তাদের এই ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা খুব বেশী। পাশাপাশি যারা ঝুকিপূর্ণ পেশায় জড়িত যেমন এসবেষ্টস কারখানায় যারা কাজ করে, বা প্রচুর ধুলাবালির মধ্যে যাদের কাজ করতে হয় তাদের ও এই ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা খুব বেশী। এছাড়া বংশগত কারনেও এমন ক্যান্সার হতে দেখা যায়।

সাধারনত ৪০ উর্ধ্ব ধুমপায়ী বা তামাকসেবী লোকজনের মধ্যে এই ক্যান্সার দেখা দেয়, বৃদ্ধ বয়সে ক্যান্সার হবার ঝুকি আরো বাড়তে থাকে, তবে ৪০ এর কম বয়সের লোকজনেরও এই রোগ হতে পারে। কাশি এই রোগের অতিপরিচিত একটি লক্ষন, দীর্ঘমেয়াদী কাশি সেই সাথে হলদেটে কফ হওয়া বা কফের সাথে রক্ত যাওয়া এসব ফুসফুসের ক্যান্সার এর লক্ষন। এই ক্যান্সারে বুকে খুব ব্যথা হতে পারে যা সহজে সারতে চায়না। শ্বাস কষ্ট হওয়া, দ্রুত ওজন কমে যাওয়া, দুর্বলতা দেখা দেয়া, রুচিহীনতা, ঘন ঘন ক্লান্তি লাগা, ক্ষুদা মন্দা এই সবই ফুসফুস ক্যান্সার এর উপসর্গ হিসেবে দেখা দিতে পারে। অনেক রোগী এই রোগে ফুসফুসে পানি জমা, পাঁজরের হাড়ে ব্যথা এমনকি জন্ডিস নিয়েও আসতে পারে। কারো কারো আবার অভিযোগ থাকে শুধু একপাশের হাতে ব্যথা এবং কাশি। তাই বৃদ্ধ বয়সের ধুমপায়ী রোগী কোনো প্রকার শ্বাস কষ্ট নিয়ে আসলে চিকিৎসক গন ফুসফুস ক্যান্সার এর কথা মাথায় রাখেন।

এই ক্যান্সার সন্দেহ হলে রোগীকে বুকের এক্সরে করাতে হয় এবং তাতে টিউমারের মতো কিছু পেলে তা থেকে বায়োপসি করে নিশ্চিত হতে হয় এটা সত্যিই ক্যান্সার কিনা বা ক্যান্সার হলেও এটা কোন ধরনের ক্যান্সার। এছাড়া রোগীর কফ পরীক্ষা, নানা ধরনের রক্তপরীক্ষা, বুকের সিটি স্ক্যান, পেটের আলট্রাসনোগ্রাম সহ নানা ধরনের পরীক্ষা করানোর প্রয়োজন হতে পারে। আগেই বলেছি শরীরের অন্য কোথাও ক্যান্সার হলেও তা ফুসফুসে চলে আসতে পারে। সেক্ষেত্রে চিকিৎসা পুরোপুরি ভিন্ন ধরনের হয় তাই এটা জানা খুব জরুরী যে ধরাপড়া ক্যান্সার টি সত্যিই ফুসফুসের ক্যান্সার না অন্য কোনো অঙ্গ থেকে এসেছে।

অন্য যেকোনো ক্যান্সারের মতো ফুসফুসের ক্যান্সারের চিকিৎসাও বেশ জটিল। প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগ ধরা পড়লে অপারেশন এর মাধ্যমে ফুসফুসের অংশ বিশেষ (Lobectomy) বা রোগাক্রান্ত একপাশের ফুসফুস কেটে (Pneumonectomy) ফেলে দিলে রোগী সুস্থ হয়ে যায়। তবে রোগ যতো দেরীতে ধরা পড়ে চিকিৎসাও তত বেশী জটিল হয়। এক পর্যায়ে অপারশনের সাথে সাথে কেমোথেরাপী নেবারও প্রয়োজন হতে পারে। রোগ খুব বেশী দেরীতে ধরা পড়লে তা সমস্ত শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং অপারেশনের কোনো সুযোগ থাকেনা, শুধু কেমোথেরাপীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, সেক্ষেত্রে সুস্থ হবার সম্ভাবনাও কমতে থাকে। এই ক্যান্সার ফুসফুস থেকে মস্তিস্ক এবং অস্থিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় বিশ্বের অনেক হাসপাতালে এই অবস্থাতেও অপারেশন করে চিকিৎসা করার দৃষ্টান্ত আছে। তাই খুব সহজেই নিরাশ হবার কিছু নেই। সঠিক সময়ে রোগ নির্নয় করা গেলে অধিকাংশ রোগীই ৫ বছরের বেশী সময় বেঁচে থাকতে দেখা যায় তবে সমস্ত শরীরে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়লে এই হার নগন্য হয়ে দাঁড়ায়।

Please Share:

Related posts

Leave a Comment