ভেষজ উপায়ে রূপচর্চা

সব ধরনের ত্বকের জন্যই আছে ভেষজ পদ্ধতিতে রূপচর্চা। মডেল: নাবিলা সুস্থ আর সুন্দর ত্বক কে না চায়। আর সুন্দর ত্বকের জন্য দরকার হয় আলাদা যত্নের। প্রত্যেক মানুষের ত্বকের ধরন আলাদা আর ত্বকের ভিন্নতার কারণে যত্নও নিতে হয় একটু ভিন্ন উপায়ে। যাঁদের ত্বক কিছুটা সংবেদনশীল, তাঁদের জন্য রাসায়নিক দ্রব্যাদি দিয়ে তৈরি প্রসাধনসামগ্রী ত্বক সহ্য করতে পারছে না। তাঁদের জন্য রয়েছে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক গুণসমৃদ্ধ ও ভেষজ উপায়ে তৈরি রূপচর্চার নানা উপকরণ। চাইলে ঘরে বসে কিংবা পার্লারে গিয়েও আপনি ভেষজ উপায়ে রূপচর্চা করতে পারেন। ভেষজ উপায়ে ত্বকের যত্ন নেওয়া সম্পর্কে বলছিলেন হারমনি স্পার পরিচালক ও রূপবিশেষজ্ঞ রহিমা সুলতানা।
তিনি বলেন, ত্বক সাধারণত তিন ধরনের হয়ে থাকে�তৈলাক্ত, শুষ্ক ও সাধারণ। এই তিন ধরনের ত্বকের জন্য চাই তিন ধরনের রূপচর্চা।
ত্বক যখন তৈলাক্ত
যাঁদের ত্বক তৈলাক্ত, তাঁদের বারবার মুখ ধুতে হবে। কেননা, পানি ত্বকের জন্য উপকারী। মুখ ভালো করে পরিষ্কার করে শসার রস, মেথির গুঁড়া ও চালের গুঁড়া দিয়ে প্যাক তৈরি করে লাগানো যায়। নিয়ম করে সকালে আর বিকেলে প্যাক ব্যবহার করলে মুখের তৈলাক্ত ভাব কেটে যাবে। এতে ব্রণ হওয়ার আশঙ্কাও কমে যায়।
শুষ্ক ত্বকের জন্য
যাঁদের ত্বক শুষ্ক, তাঁদের জন্য রয়েছে রূপচর্চার অন্য উপায়। কাঠবাদাম, সয়াবিন পাউডার ও দুধ দিয়ে প্যাক তৈরি করে মুখে দিনে অন্তত একবার মাখলে ত্বক অনেক মসৃণ হয়ে যায়। এতে শুষ্ক ভাবটা কমে যায়।
স্বাভাবিক ত্বকের বিশেষ যত্ন
অনেকে মনে করেন, যাঁদের স্বাভাবিক ত্বক, তাঁদের হয়তো রূপচর্চার দরকার নেই। বিষয়টি কিন্তু একদমই তেমন নয়। স্বাভাবিক ত্বকের জন্য রয়েছে বিশেষ যত্ন। আমলকী, সয়াবিনের গুঁড়া ও সামান্য একটু কাঁচা হলুদ আর মধু মিশিয়ে ঘরে প্যাক তৈরি করে লাগাতে পারেন।
ত্বক থাকুক তরুণ
ত্বকে বয়সের ছাপ যেন না পড়ে, সে জন্য তিল, পুদিনাপাতা, সয়াবিন পাউডার, কাঁচা হলুদ আর মধু দিয়ে প্যাক তৈরি করে মুখে নিয়ম করে সকালে মাখুন। এসব প্যাক ঘরে তৈরি করে ফ্রিজে রেখে অনায়াশেই কয়েক দিন ব্যবহার করতে পারেন।
চুলের যত্ন
নিয়ম করে চুলে তেল দেওয়ার পরামর্শও দেন রহিমা সুলতানা। তবে শুধু নারকেলের তেল নয়, নারকেলের সঙ্গে তিলের তেল মিশিয়ে নিলে চুল ভালো থাকে। আমলকী, হরীতকী, বহেড়া, ভৃঙ্গরাজ আর মেথি একসঙ্গে মিশিয়ে পিষে পেস্ট করে চুলে মেখে রাখুন। এরপর কলাপাতায় চুল পেঁচিয়ে কিছু সময় রেখে শ্যাম্পু করলে চুল হবে ঝরঝরে। আলাদা করে কন্ডিশনার ব্যবহার না করে আমলকী সেদ্ধ করে পানি ছেঁকে ওই পানি দিয়েও কন্ডিশনারের কাজ করা যায়। এই ভেষজ উপকরণগুলো বাজারে কিনতে পাওয়া যায়।
শুধু প্যাক তৈরি করে ত্বকে আর চুলে মাখলেই হবে না; খাবারের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। ত্বক সুন্দর রাখতে ভেতর থেকে ভালো থাকা প্রয়োজন। এ জন্য প্রচুর পানি আর ফল খেতে হবে। সকালে খালি পেটে থানকুনিপাতার রস কিংবা কাঁচা হলুদের রস খেলে পেট পরিষ্কার হয়, ত্বক ভালো থাকে।
নগরের বিভিন্ন পার্লার আজকাল ভেষজ বা হারবাল রূপচর্চার সেবা দিয়ে থাকে। ভেষজ রূপচর্চায় ফল একটু ধীরে পাওয়া যায়। তবে এটি সম্পূর্ণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত পদ্ধতি।

Please Share:

Related posts

Leave a Comment