খাদ্যে বিষাক্ত ক্যামিক্যাল

সারা দেশসহ গোটা বিশ্বে এখন নিরব ফুড জেনোসাইড চলছে। তবে যারা মারা গেছে তারা মুক্তি পেয়েছে, আর যারা বেঁচে আছে তাদের প্রতিবন্ধি, অন্ধ অথবা বধির হয়ে বেচে থাকতে হবে। ক্যামিকেল মিশ্রিত খাবার খেয়ে অপুষ্টি আর ভগ্নস্বাস্থ্য নিয়ে মানবজাতি আজ মৃত্যুর মুখে। গত ৬ই জানুয়ারি পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন(পবা) আয়োজিত বারডেম মিলনায়তনে বিষাক্ত খাদ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য জন্য হুমকি: আমাদের করনীয় সেমিনারে পবার সভাপতি আবু নাসের খান উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।এময় সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন মাদক ও নেশা নিরোধ (মানস)এর সভাপতি অরুপ রতন চৌধুরী, পবার সভাপতি আবু নাসের খান, কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মন্জুরুল আহসান খান, বারডেম ল্যাবরোটরী প্রধান ডা: শুভাগত চৌধুরী, ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক মোল্লা ওবায়দুল্লাহ বাকী, প্রফেসর খুরশিদ জাহান খান, পুষ্টি ও খাদ্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রমুখ।

সেমিনারে অরুপ রতন চৌধুরীর সভাপতিত্বে মুল প্রবন্ধ যৌথভাবে উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি খাদ্য বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর খুরশীদ জাহান ও খালেদা ইসলাম। প্রবন্ধে তারা বর্তমান শিশুদের ফাস্টফুডের প্রতি ঝুকে পড়ার মারাত্মক প্রবনতা ও ফাস্টফুডের ক্ষতিকারক দিকগুলো তুলে ধরেছেন। মুল বক্তবে তারা পরিবেশ দুষণ ও জলবায়ুকেও স্বাস্থ্যক্ষতির অন্যতম কারণ হিসাবে উল্লেখ করেণ। পরিবেশ দুষণের জন্য তারা ঢাকা শহরের ২৭৭টি ট্যানারী ও অসচেতনভাবে বর্জ্য অপসারনকে দায়ী করেন। এই বর্জ্যগুলোর মধ্যে থাকা ক্ষতিকারক ক্যামিকেল হেভি মেটাল, কোরানিয়াম, কেডমিয়াম, আরসেনিক, জিন্ক যা মানবদেহে ফুড অব চেইন এর মাধ্যমে প্রবেশ করে মানবদেহের মারাত্মক ক্ষতি করছে। যা শুধু মানবদেহের ক্ষতিই করবে না, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাড়াবে । যার কারনে পরবর্তী প্রজন্ম অন্ধ ও বধির রোগের মত অভিশপ্ত রোগ নিয়ে জন্ম গ্রহন করবে।এই পরিবেশ দুষনের অন্যতন খারাপ প্রভাব হচ্ছে মানবদেহের খাদ্যনালী, লিভার ও কিডনীতে জটিলতা সৃষ্টি করবে। বিভিন্ন ধরনের প্রাণঘাতি রোগের প্রাদুর্ভাব এবং দিন-দিন খাল, বিল, নদী, নালা এবং পুকুর থেকে মাছ হারিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারন হিসাবে তারা জলবায়ু পরিবর্তন এবং বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকারক রাসায়ানিক সার ব্যবহারের নেতিবাচক প্রভাবকে দায়ী করেন। লিখিত প্রবন্ধে তারা আরো উল্লেখ করেন যে, ঢাকা শহরে ১কোটিরও অধিক লোক প্রতিদিন ৫০ মেট্রিকটন বিভিন্ন ধরনের শাক-শবজি খায়,এগুলোর প্রায় ৩০ মেট্রিকটন শাক- শবজি বিষাক্ত কিটনাশক মেশানো। তাই এই কীটনাশক মেশানো খাবারের শিকার যদি কোন গর্ভবতী মহিলা হন তাহলে মা ও তার গর্ভস্থ সন্তান এবং স্তন্যপানকারী সন্তান সেটার শিকার হবে।খাবারের রং এবং মাত্রাতিরিক্ত ফুড এডিটিনেসগুলোও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক 
কারসিনোজেনিক মোড়কজাত চিপস,স্যুপ ইত্যাদিতে বিভিন্ন ধরনের ফ্লেভার বিশেষ করে মনোসোডিয়াম গাল্ট এন্টি থাকে। এগুলো শিশুদের স্বাস্থের জন্য খুবিই ক্ষতিকর। বড়দের ক্ষেত্রে চাইনিজ রেস্টটুরেন্ট সিনড্রম নামক একটি নিউরোলজিকাল সমস্যা এর সৃষ্টি করে। দ্রুত নগরায়নের ফলে বড় বড় শহরগুলোতে এ সমস্যা বাড়ছে, বাড়ছে নিরাপদ খাদ্য ও পানি সমস্যা। আগামী ২০১৫ নাগাদ ঢাকা শহর পৃথিবীর ৪র্থ শহরে পরিনত হবে তখন জনসংখ্যা হবে ২,৩০০ মিলিয়্ন এবং ঢাকা হবে পৃথিবীর সবচেয়ে নোংরা শহর। 
সেমিনারে মোল্লা ওবায়দুল্লাহ বলেন, প্রতিবছর বিশ্বের ১কোটি লোক ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে । বাংলাদেশে প্রতিবছর ১২ লক্ষ লোক ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, ওয়ার্ল্ড হেলথ অরগানাইজেন (who) এর মতে,ক্যান্সার প্রতিরোধযোগ্য হলেও আমাদের দেশে প্রতিবছর ক্যান্সার রোগী দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ক্যান্সার চিকিৎসা ব্যয়বহুল হওয়ার কারনে চিকিৎসার অভাবে অনেক লোক মারা যাচ্ছে। তিনি বলেন, বেশী বেশী তৈলাক্ত খাবার যেমন গরুর মাংস এবং খাসীর মাংস খাওয়ার ফলে ক্যান্সারে বেশীর ভাগ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। অস্বাভাবিক যৌনাচারকে তিনি জরায়ু ক্যান্সারের অন্যতম কারন হিসাবে উল্রেখ করেন।ফুসফুস ক্যান্সারের জন্যে তিনি তামাক ব্যবহারকে, অন্ডকোষ ক্যান্সারের জন্যে এ্যালুমিনিয়াম শিল্প, নাকের ক্যান্সারের জন্যে তিনি চামড়া ও কাঠ শিল্পের ক্ষতিকর প্রভাবের কথা উল্লেখ করেন। মুত্রনালীতে ক্যান্সার হওয়ার উদাহরণ হিসাবে তিনি রাবার শ্রমিকদের নাম উল্লেখ করেন। সেমিনারে আরো বক্তব্য দেন ডা:শুভাগত চৌধুরী, প্রফেসর ড: নুরজাহান, খেলাঘর আসরের সভাপতি ড: লেলিন, সিপিবি সভাপতি মন্জুরুল আহসান খান, ড: হেলালুজ্জামান প্রমুখ

 

Please Share:

Related posts

Leave a Comment