কিডনি সংযোজন ও একটি মানবিক আবেদন

সাব্বির ও শাহেদ (ছদ্ম নাম) দুই যমজ ভাই। দুই ভাই-ই শেষ পর্যায় দীর্ঘস্থায়ী কিডনি অকেজো রোগে আক্রান্ত। বিধবা মায়ের চোখের মণি দুই ভাই ডায়ালাইসিস চিকিত্সার মাধ্যমে কোনোমতে বেঁচে আছে। অথচ কিডনি সংযোজনের মাধ্যমে দু্ই ভাই নতুন জীবন ফিরে পেতে পারে। এখন প্রশ্ন, এই কিডনি দেবে কে? বর্তমানে পৃথিবীতে কিডনি রোগে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এ রোগে আক্রান্তের হার খুব বেশি। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় দুই কোটি লোক কোনো না কোনো কিডনি রোগে ভুগছে। প্রতি মিলিয়নে ১২০ থেকে ১৫০ জন মানুষ শেষ পর্যায়ে দীর্ঘস্থায়ী কিডনি অকেজো রোগে আক্রান্ত হয়…

Read More

কিডনি সুস্থ রাখুন

বিশ্বজুড়ে ২৮ কোটিরও বেশি লোক ভুগছে ডায়াবেটিসে। এভাবে চলতে থাকলে ২০২৫ সালে তা ৪৪ কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে অনুমান। অনেকেই জানেননা যে ডায়াবেটিসের সঙ্গে কিডনি রোগের রয়েছে ঘনিষ্ট সম্পর্ক। বস্তুত: ডায়াবেটিসে আক্রান- লোকের এক তৃতীয়াংশের রয়েছে ডায়াবেটিস জনিত কিডনি রোগ, ডাক্তারি ভাষায় ডায়াবেটিক নেফ্রোপ্যাথি। এসব বিষয় জনগণকে জানাতে হবে, জনগণকে সচেতন করে তুলতে হবে। স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর আচরণ না করা, স্থূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করা, এবং ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্ত চাপের সনাক্ত করণের জন্য আগাম স্ক্রিনিং করা এসব কাজের জন্য প্রয়োজন সমন্বিত কর্মসূচী ও উদ্যোগ। এমন অনেক লোক রয়েছেন যাঁরা জানেনইনা যে…

Read More

কিডনি রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিস্থাপন: বাংলাদেশ পরিপ্রেক্ষিত

যাঁরা অংশ নিলেন  অধ্যাপক হারুন অর রশীদ প্রেসিডেন্ট, কিডনি ফাউন্ডেশন  ডা. হাবিবুর রহমান সহযোগী অধ্যাপক, রেনাল ট্রান্সপ্লান্টেশন ইউনিট বঙ্গবন্ধু শেখমুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়  অধ্যাপক রফিকুল আলম চেয়ারম্যান, নেফ্রোলজি বিভাগ বঙ্গবন্ধু শেখমুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়  অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম চেয়ারম্যান, ইউরোলজি বিভাগ বঙ্গবন্ধু শেখমুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়  অধ্যাপক ফিরোজ খান পরিচালক, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজ অ্যান্ড ইউরোলজি  অধ্যাপক জামানুল ইসলাম ভুঁইয়া বিভাগীয় প্রধান, ইউরোলজি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজ অ্যান্ড ইউরোলজি  ডা. কাজী রফিকুল আবেদীন সহকারী অধ্যাপক, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজ অ্যান্ড ইউরোলজি  ডা. পিনাকী…

Read More

কিডনির সমস্যা হলে রোগের শেষ নেই

হৃদযন্ত্র ও অন্যান্য দেহযন্ত্র নিয়ে যত কথা হয়, কিডনি নিয়ে তত কথা হয় না, শরীরের নানা কাজে এদের অবদান যে কত, ভাবা যায় না। শরীর সুস্থ রাখার জন্য কিডনির ভূমিকা অনস্বীকার্য। যদিও শরীরের নানা জঞ্জাল ও বাতিল তরল কিডনি বের করে দেয়। কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে বিষাক্ত জিনিস শরীরে জমে জমে অসুস্থ হয় হূদযন্ত্র ও ফুসফুস। শরীরে পানি জমে, হয় শ্বাসকষ্ট। আমাদের শরীরে রয়েছে দুটো কিডনি। শিমের বীচির মতো দেখতে, ওজন ১৫০ গ্রাম, আয়তনে ১২x৫ সেন্টিমিটার। পিঠের মাঝখানে পাঁজরের খাঁচার নিচে এদের অবস্থান। প্রতিটি কিডনি অনেকগুলো খুবই ছোট, অথচ…

Read More

বিকল কিডনির জন্য ডায়ালাইসিস

আমাদের শরীরের কোনো অঙ্গ বা প্রত্যঙ্গ যতক্ষণ না স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বিঘ্ন ঘটায়, সে পর্যন্ত সাধারণত আমরা সেটির কার্যক্রম জানতে পারি না। সেই প্রত্যঙ্গের কার্যকরতা বিঘ্নিত হলে কারণটি অপসারণের চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থা নিতে হয়। এ রকম একটি প্রত্যঙ্গ হচ্ছে কিডনি। শরীরের নিম্নাঙ্গের অভ্যন্তরে পিঠের দিকে বাঁ ও ডান পাশে কিডনি দুটির অবস্থান। এই কিডনির কার্যকরতা নানা কারণে বিঘ্নিত হতে পারে। কার্যকরতা অবাধ রাখার জন্য যে চিকিৎসাভিত্তিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, তাকে বলা হয় ডায়ালাইসিস। কার্যকরতা প্রথমে সবাইকে জানতে হবে দুই কিডনির প্রয়োজনীয়তা বা শরীর যন্ত্র চালু রাখতে ডায়ালাইসিসের কী ভূমিকা রয়েছে। কিডনির…

Read More

কিডনি রোগীরা যা খাবেন না

পানি খেতে হবে পরিমিত। প্রতিদিনের পস্রাবের পরিমানের ওপর নির্ভর করবে কতটুকু পানি রোগী খেতে পারবেন। ০ কিডনি রোগী মাছ, মাংস, দুধ, ডিম প্রভৃতি প্রাণীজ আমিষ সীমিত পরিমাণে খাবেন। রোগীর রক্তের ক্রিয়েটিনিন, শরীরের ওজন, ডায়ালাইসিস করেন কিনা, করলে সপ্তাহে কয়টা করেন তার ওপর নির্ভর করবে প্রতিদিন কত গ্রাম প্রোটিন খাবেন তার পরিমাণ। ০ উদ্ভিজ প্রোটিন বা দ্বিতীয় শ্রেণীর প্রোটিন যেমন-ডাল, মটরশুটি, সিমেরবীচি যে কোন বীচি ডায়েট চার্টে থাকবে না। ০ যে সমস্ত- সবজি খাবেননা: ফুলকপি, বাধাকপি, গাজর, ঢেঁড়শ, শিম, বরবর্টি, কাঠালের বীচি, শীমের বীচি, মিষ্টি কুমড়ার বীচি, কচু, মূলা এবং পালং,…

Read More

নারীর একান্ত সমস্যা

আজকে আমরা যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব তা হলো মেয়েদের হাঁচি-কাশির সঙ্গে বেগ ছাড়াই অনিয়ন্ত্রিত প্রস্রাব বেরিয়ে যাওয়ার সমস্যা। চিকিৎসা পরিভাষায় একে বলা হয় ‘ইউরিনারি স্ট্রেস ইনকন্টিনেন্স’। বাংলাদেশের মেয়েদের কত শতাংশ এ সমস্যায় ভুগছে তার সঠিক পরিসংখ্যান না জানা থাকলেও হাসপাতালে এবং ব্যক্তিগত চেম্বারের অভিজ্ঞতা থেকে অনুমেয় যে এ সংখ্যা একেবারে কম নয়। চিরকালীন স্বভাবজাত লজ্জায় আমাদের মেয়েরা যতক্ষণ পারেন সহ্য করেন, আর যেহেতু এটা জীবন সংহারী কোনো অসুখ নয়, তাই সহজে চিকিত্সকের শরণাপন্ন হন না। কিন্তু ধীরে ধীরে জীবনযাপনের মান নেমে আসতে থাকে। স্বাভাবিক অবস্থায় যত প্রবল কাশি আর…

Read More

একটি বিব্রতকর সমস্যা

রুমানা চট্টগ্রাম থেকে বাসে ঢাকা ফিরছিলেন। কুমিল্লায় হাইওয়ে রেস্টুরেন্টে নাশতা করে টয়লেট সেরে নিয়েছিলেন, কিন্তু আধঘণ্টা না পেরোতেই প্রস্রাবের বেগ চাপল। ক্রমেই বেগ বাড়তে লাগল। রুমানা বাসের জানালা দিয়ে অন্ধকারে চোখ রেখে খুঁজতে থাকেন পেট্রলপাম্প, টয়লেটের আশায়। তলপেটে অস্বস্তি অনুভব হচ্ছে, আর বেশিক্ষণ ধরে রাখা কঠিন, অস্থির হয়ে উঠছেন রুমানা। গাড়ি মেঘনা সেতুর টোল প্লাজায় থামতেই চালককে অনুরোধ করে গাড়ি থামান। পাশে ঘুমিয়ে থাকা ভাইকে কিছু না বলেই দ্রুত নেমে প্রায় দৌড়ে পেট্রলপাম্পের টয়লেটে পৌঁছান। প্রস্রাব সেরে বাসে ফিরতেই ভাই অবাক হয়ে জানতে চায় হন্তদন্ত হয়ে নামার কারণ। রুমানা প্রস্রাবের…

Read More

ডিম্বাণু বেরোনোর সময় ব্যথা হওয়া স্বাভাবিক

নারীর প্রজনন অঙ্গগুলোর মধ্যে জরায়ু এবং দুটি ডিম্বাশয়ও অন্তর্ভুক্ত। বয়ঃসন্ধির পর থেকে মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া (মেনোপোজ) পর্যন্ত গর্ভকাল ছাড়া প্রতিটি নারীর মাসিক চক্র চলতে থাকে। প্রতি মাসে একটির বেশি ডিম্বাণু বড় হতে থাকে এবং মাসের মাঝামাঝি সময়ে একটি পরিণত অবস্থায় স্ফুরিত হয়। ডিম্বাশয় থেকে বের হয়ে আসা ডিম্বাণুটি শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হলে ভ্রূণ তৈরি হয়, আর তা না হলে ডিম্বাণুটি ধীরে ধীরে অকার্যকর হয়ে মিলিয়ে যায়। আবার নতুন ডিম্বাণু বড় হতে থাকে। ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণুটি বের হওয়ার সময় কিছুটা তরল পদার্থ বের হয়ে আসে, যা তলপেটের ভেতরে পড়ে তীব্র…

Read More

ডিজমেনোরিয়া – ঋতুকালীন ব্যথা

ব্যথাযুক্ত ঋতুস্রাব—প্রতিকার ও চিকিৎসা ঋতুস্রাব বা মাসিকের সময় তলপেটে কোনো ব্যথা বা কষ্টদায়ক অনুভূতি হয় না, এমন নারীর সংখ্যা কম। পরিমাণগত দিক দিয়ে এ ব্যথা সামান্য থেকে তীব্র যেকোনো মাত্রায় হতে পারে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় এ ব্যথার পরিমাণ যখন এমন হয় যে তা দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত করে, তখনই কেবল এটাকে অসুস্থতা বা ডিজমেনোরিয়া বলে গণ্য করা হয়। ডিজমেনোরিয়া দুই ধরনের—প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি। প্রাইমারি ডিজমেনোরিয়া সাধারণত ১৮ থেকে ২৪ বছরের তরুণীরা এতে বেশি ভোগেন। এর নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানা নেই, তবু কারণ হিসেবে কিছু বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়ে থাকে।…

Read More