বিদেশি সংবাদ

'ডায়েট' কোমল পানীয় ও ওজন বাড়ায়

মুটিয়ে যেতে চান না বলে ডায়েট কোলা খাচ্ছেন? বিশ্বাস করুন ড্যারেন জোন্সও তাই ভাবতেন। আর তাই তিনি প্রতিদিন ডায়েট কোক খেতেন ১৮ ক্যান। সম্প্রতি বৃটিশ ট্যাবলয়েড ডেইলি মেইল-এ জোনসের ছবি ছাপা হয়েছে। তার ওজন এখন ৫০০ পাউন্ড বা প্রায় ২২৭ কেজি।

শুধু জোনস নন, ডায়েট সোডায় আসক্ত আরো কিছু তারকার নাম পাওয়া যায়। এ তালিকায় আছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, সঙ্গীত শিল্পী ভিক্টরিয়া বেকহাম, এলটন জন, মুভি মোগল হার্ভি উইনস্টাইন এবং জেফরি কাজেনবার্গ। নিউ ইয়র্ক টাইমসে তাদের এ আসক্তি নিয়ে খবরও ছাপা হয়েছে। খ্যাতিমান ডায়েটিশিয়ান আলিশা জায়েডও গতবছর টুইটারে ডায়েট কোকের প্রতি নিজের আসক্তির কথা জানিয়েছেন।

গবেষকরা সোডা মেশানো ডায়েট পানীয়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকির প্রমাণ পেয়েছেন। এর ক্ষতিকর প্রভাবে হৃদরোগ, স্ট্রোক কিংবা কিডনিতে সমস্য হতে পারে। এছাড়া ওজন বৃদ্ধি এবং নারীদের ক্ষেত্রে অপরিণত শিশু জন্মদানের আশঙ্কাও বেড়ে যায়। ডায়েট পানীয়ের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এটি নিয়মিত গ্রহণে আসক্তি তৈরি হয়, যেমনটা হয়েছিল ড্যারেন জোন্স-এর বেলায়।

সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত সোডাযুক্ত পানীয় খাচ্ছেন এমন কেউ যদি একদিন পানীয় না খান তবে তার ওজন ২৬ আউন্স কমে যায়। আসক্তির কারণ হিসেবে সোডাযুক্ত কোলায় ক্যাফেইনকে দায়ী করা হচ্ছে। আট আউন্স কোকে ৪৭ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকে।

জার্নাল অফ জেনারেল ইন্টারনাল মেডিসিন মানবদেহে সোডার প্রভাব নিয়ে গবেষণা করেছে। আড়াই হাজার প্রাপ্ত বয়স্ক লোকের ওপর চলে এ গবেষণা। প্রতিদিন সোডা খাওয়ানোর ফলে সেখানকার ৪৩ শতাংশ লোকের হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। গত ৩০ জানুয়ারি প্রকাশিত এ গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। ২০০৯ সালে হারভার্ডের একদল গবেষক জানিয়েছিলেন, প্রতিদিন দুইয়ের বেশি ক্যান কোলা খেলে এর প্রভাবে কিডনি ৩০ শতাংশ অকেজো হয়ে যায়।

কাজেই সোডা জাতীয় পানীয় সেটি ডায়েট হোক বা প্রচলিত ধরনেরই হোক, সাবধান!

 

সোর্সঃ বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম

আলসারের ব্যাক্টেরিয়া ডায়রিয়া প্রতিরোধ করতে পারে

আলসারের কারণে যাদের পাকস্থলি ব্যাক্টেরিয়ার আস্তানা হয়ে আছে তারা ডায়রিয়াজনিত কিছু অসুখমুক্ত থাকতে পারে।

স¤প্রতি ইসরায়েলের তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা একথা জানিয়েছেন।

তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্যানি কোহেনের নেতৃত্বে একদল গবেষক বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেন। ৫৯৫ জন ইসরায়েলি সেনার ওপর পরিচালিত গবেষণাটি ‘ক্লিনিক্যাল ইনফেকসাস ডিজিজেস’ নামক একটি সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

আগের কিছু গবেষণায় জানা গিয়েছিলো, হেলিকোব্যাকটার পাইলোরি নামের ব্যাক্টেরিয়ায় আক্রান্ত হলে ডায়রিয়া সংক্রমণের আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু সা¤প্রতিক গবেষণায় এর বিপরীত ধারণা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা।

প্রকাশিত গবেষণা ফলাফলে কোহেন লিখেছেন, “আমাদের গবেষণায় ডায়রিয়াজনিত সংক্রমণের বিরুদ্ধে হেলিকোব্যাকটার পাইলোরির সক্রিয় ভূমিকা দেখা গেছে।”

উন্নয়নশীল বিশ্বে হে. পাইলোরি খুব সাধারণ একটি ব্যাক্টেরিয়া। তবে আক্রান্তদের খুব কম জনের মধ্যেই এতে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ প্রকাশ পায়। দীর্ঘদিন ধরে যারা এ ব্যাক্টেরিয়ায় আক্রান্ত তাদের পাকস্থলির ক্যান্সার ও অন্যান্য আলসারজনিত রোগ হওয়ার সম্ভবনা আছে।

কোহেনের গবেষক দল যে সেনাদের ওপর গবেষণা চালায় তাদের তিন ভাগের এক ভাগ মাঠ পর্যায়ের প্রশিক্ষণের সময় ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়েছিলো।

প্রশিক্ষণের আগে এই সেনাদের সবার রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। রক্তের এ নমুনা থেকে গবেষকরা জানতে পারেন কে কে দীর্ঘদিন ধরে হে. পাইলোরিতে আক্রান্ত।

প্রশিক্ষণের পর দেখা যায়, যারা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন তাদের ৩২ থেকে ৩৬ শতাংশ হে. পাইলোরিতে আক্রান্ত ছিলেন, কিন্তু অন্য ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণে বা অজানা কারণে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন।

এর বিপরীতে, আগে থেকেই হেলিকোব্যাকটার পাইলোরিতে আক্রান্ত ছিলেন এমন ৫৬ শতাংশের বেশি জন সেনা ডায়রিয়া জানিত কোনো সংক্রমণের শিকার হয়নি।

গবেষকরা হিসাব করেন, যে সেনারা হে. পাইলোরিতে আক্রান্ত এদের অন্তত ৬০ শতাংশের শিগেল্লা ব্যাক্টেরিয়া জনিত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা কম। এদের এশ্চেরিচিয়া কোলি ব্যাক্টেরিয়া জনিত ডায়রিয়ায়ও আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা কম।

 

সূত্রঃ রয়টার্স, বিডিনিউজ২৪.কম

জাপানে শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমানোর লক্ষ্যে সম্মেলন

 

সম্প্র্রতি জাপানের কোবে শহরের আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল জাপানি সোসাইটি অব পেরিনেটাল ও নিওনেটাল মেডিসিনের ৪৬তম বার্ষিক সম্মেলন। এই সম্মেলনে জাপানের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, তাইওয়ান, মালয়েশিয়া, কোরিয়া, ভিয়েতনাম, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অংশ নেন। গত ১১ থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত এই সম্মেলন চলে।
কংগ্রেস সভাপতি অধ্যাপক আকিয়ো কুবোতার আমন্ত্রণে বাংলাদেশের ১০ সদস্যের চিকিৎসক দল অংশ নেয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজের ্রশিশু সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবদুল হানিফ নবজাতকদের সার্জারির আট বছরের অভিজ্ঞতার ওপর প্রবন্ধ উপস্থাপন এবং নিওনেটাল সার্জারি সেশনে সভাপতিত্ব করেন।
ঢাকা শিশু হাসপাতালের অধ্যাপক আজাদ বাংলাদেশের শিশু স্বাস্থ্যের সামগ্রিক চিত্র, সাফল্য ও সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেন। ঢাকা শিশু হাসপাতালের সার্জারির অধ্যাপক আবদুল আজিজ খাদ্যনালি ও পায়ুপথের জন্মগত ত্রুটির সফল সার্জারির ওপর প্রবন্ধ ও পোস্টার সেশনে সভাপতিত্ব করেন। ঢাকা মেডিকেলের কানিজ হাসিনা নবজাতকের জন্মগত ডায়াফ্রাম হার্নিয়া রোগীদের সার্জারির মাধ্যমে সুস্থ করে তোলার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। সম্মেলনে ঢাকা মেডিকেলের নিওনেটালজি বিভাগের অধ্যাপক মো. আবিদ হোসেন মোল্লা ও শিশু বিভাগের অধ্যাপক এল ই ফাতমীসহ অধ্যাপক নওয়াজেস, অধ্যাপক সিদ্দিকী ও চিকিৎসক এম এস হক অংশ নেন। সম্মেলনে স্টেম সেল, ফিটাল সার্জারি চাইল্ড অ্যাবিউস, নিরাপদ মাতৃত্ব, জন্মগত ত্রুটি প্রতিরোধ, শিশু ও পরিবেশসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপিত হয়। রোগীরা নিজেরাও তাঁদের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন।

পিঠ ও ঘাড়ের ব্যথামুক্তিতে নতুন শল্যচিকিৎসা

বামরুনগ্রাডের অভিজ্ঞতা
পিঠ ও ঘাড়ের ব্যথামুক্তিতে নতুন শল্যচিকিৎসা

পিঠ ও ঘাড়ের ব্যথার চিকিৎসায় নতুন সংযোজন এন্ডোসকপিক স্পাইন সার্জারি। গতানুগতিক অস্ত্রোপচারের বিকল্প নতুন প্রযুক্তির এই শল্যচিকিৎসায় রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে বলে চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীরা দাবি করছেন।
এশিয়াতে এই চিকিৎসায় অগ্রদূত ব্যাংককের বামরুনগ্রাড হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. ভিরাপান কুয়ানসংথাম প্রথম আলোকে বলেন, মেরুদণ্ডে বড় ধরনের সমস্যা এন্ডোসকপিক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সমাধান সম্ভব। এই অস্ত্রোপচারের পর ২-৩ ঘণ্টার মধ্যে রোগী হাঁটাচলা করতে পারেন। আর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতাল ছেড়ে চলে যেতে পারেন।
ঘাড় ও মেরুদণ্ডের চিকিৎসায় সর্বাধুনিক প্রযুক্তির এই চিকিৎসার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় চার বছর আগে জার্মানিতে। জার্মানির সেন্ট আন্না হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সিভাসটিয়ান রাটেন ও ডা. মার্টিন কমপ মূলত এই চিকিৎসা পদ্ধতির পথিকৃৎ। আর এই চিকিৎসা পদ্ধতির সরঞ্জাম তৈরি করেছে জার্মানির মেডিকেল সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান রিচার্ড ওলফ জিএমবিএইচ।
এশিয়াতে এই পদ্ধতিতে ঘাড় ও পিঠের ব্যথার চিকিৎসা প্রথম শুরু করে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অবস্থিত বামরুনগ্রাড হাসপাতাল। হাসপাতালের বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. ভিরাপান ও তাঁর সহকর্মীরা ডা. সিভাসটিয়ান রাটেন ও ডা. মার্টিন কমপের কাছে এই পদ্ধতির ব্যবহার হাতে-কলমে শিখেছেন। এরপর তাঁরা নিজ দেশে চর্চা শুরু করেন। ডা. ভিরাপানের নেতৃত্বে বামরুনগ্রাড হাসপাতালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে স্পাইন ইনস্টিটিউট। এই ইনস্টিটিউটে জার্মানি ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ২০ সদস্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল চিকিৎসা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণার কাজ করছে।
চিকিৎসাপদ্ধতি সম্পর্কে ডা. ভিরাপান বলেন, তাঁরা তিনটি পর্যায়ে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। প্রথমে অস্থি ও স্নায়ু শল্যচিকিৎসক, মেডিসিন, ফিজিওথেরাপিসহ ঘাড় ও পিঠের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষ-নিরীক্ষা শেষে রোগ, এর চিকিৎসা ও সুস্থতার বিষয়ে মূল্যায়ন করা হয়। তারপর চিকিৎসার বিষয়ে পরিকল্পনা করা হয়। প্রয়োজনে তাঁরা জার্মানির সেন্ট আন্না হাসপাতালে চিকিৎসকদের সঙ্গেও পরামর্শ করেন।
ডা. ভিরাপান বলেন, পিঠের ব্যথার শেষ বিকল্প হচ্ছে শল্যচিকিৎসা। এন্ডোসকপিক পদ্ধতিতে মাত্র আট মিলিমিটার ছিদ্র করে মেরুদণ্ডে শল্যচিকিৎসা দেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের সময় মেরুদণ্ডের ভেতরের চিত্র কম্পিউটারের মনিটরে দেখা যায়। অস্ত্রোপচারের কারণে টিস্যু ও স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতির যে আশঙ্কা থাকে নতুন এই পদ্ধতিতে তা অনেক কম।
বামরুনগ্রাড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই শল্যচিকিৎসায় রোগীপ্রতি খরচ পড়ছে দুই থেকে তিন লাখ থাই বাথ (চার লাখ ৯৫ হাজার টাকা থেকে সাত লাখ ৪০ হাজার টাকা)।
ডা. ভিরাপান প্রথম আলোকে জানান, বামরুনগ্রাডে এ পর্যন্ত ৩০০ জন রোগীকে এন্ডোসকপিক সার্জারির মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ৯৫ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে তাঁরা সফল হয়েছেন। তিনি বলেন, যাঁদের মেরুদণ্ডে ত্রুটির কারণে পিঠে অনবরত প্রচণ্ড ব্যথা ও একই কারণে পায়ে দুর্বলতা দেখা দেয় এবং মেরুদণ্ডে জন্মগত ত্রুটি আছে বা জটিল সমস্যা আছে তাদের জন্য এন্ডোসকপিক সার্জারির অনুমোদন দিচ্ছেন তাঁরা।
ডা. ভিরাপান জানান, চিকিৎসার পাশাপাশি নতুন এই পদ্ধতির ওপর দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। প্রযুক্তির উন্নতি ঘটাতেও তাঁরা গবেষণা করছেন। এসব বিষয়ে বামরুনগ্রাডের চিকিৎসক দল জার্মান চিকিৎসকদের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন।
নতুন এই চিকিৎসাপদ্ধতির প্রসার বাড়াতে বামরুনগ্রাড হাসপাতালে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ‘এশিয়ান ফুল এন্ডোস্পাইন ট্রেনিং ইনস্টিটিউট’। ‘পিঠ ও ঘাড়ের ব্যথা থেকে মুক্তি’—এই স্লোগানে ইনস্টিটিউটের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে ৭ জুলাই। ডা. ভিরাপান এই ইনস্টিটিউটের পরিচালক।
ওই দিনই জার্মানির সেন্ট আন্না হাসপাতাল ও রিচার্ড ওলফ জিএমবিএইচের সঙ্গে বামরুনগ্রাড হাসপাতালের সমঝোতা স্মারক সই হয়। এই উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বামরুনগ্রাডের পরিচালক (মেডিকেল) ডা. চামারি চুয়াপেচারাসোপন বলেন, চুক্তি সই নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বামরুনগ্রাড হাসপাতালের সক্ষমতার বড় স্বীকৃতি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ডা. মার্টিন কমপ বলেন, সেন্ট আন্না হাসপাতালে এই পর্যন্ত এই পদ্ধতিতে ১০ হাজার রোগীকে সফলভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ডা. ভিরাপান জানান, ইতিমধ্যে তাঁরা মালয়েশিয়া, কোরিয়া, চীন, হংকংসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের বেশ কিছু চিকিৎসককে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। ইনস্টিটিউট করার পর এ বিষয়ে বিভিন্ন দেশের চিকিৎসকদের এক বছরের ফেলোশিপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বছরে একবার দুই দিনের কর্মশালার ব্যবস্থা আছে। পরবর্তী কর্মশালা আগামী বছরের জানুয়ারিতে।
ডা. ভিরাপান বলেন, যেকোনো দেশের চিকিৎসকেরা ফেলোশিপ ও কর্মশালায় অংশ নিতে আবেদন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা অগ্রাধিকার পাবেন। কর্মশালায় অংশ নিতে জনপ্রতি এক হাজার মার্কিন ডলার ফি দিতে হবে। তিনি জানান, বাংলাদেশের একজন চিকিৎসক একটি কর্মশালায় অংশ নিয়েছিলেন।
বামরুনগ্রাড হাসপাতালের পরিচালক (আন্তর্জাতিক বিপণন) সিলভিয়া ইয়ং জানান, এই চিকিৎসার ব্যাপারে তথ্য জানতে ও সার্বিক সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশের রোগীরা তাঁদের ঢাকার তথ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে পারেন। পান্থপথে ইউটিসি ভবনের ১২ তলায় বামরুনগ্রাডের ঢাকার তথ্যকেন্দ্র অবস্থিত।

একনজরে বামরুনগ্রাড হাসপাতাল
 ১৯৮০ সালে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে প্রতিষ্ঠা।
 প্রতিষ্ঠার ৩০ বছরের মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি হাসপাতালে পরিণত।
 ৫৫৪ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালে  ৭০০ পূর্ণকালীন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ ১২০০ চিকিৎসক।
 রোগ পরীক্ষা-নিরীক্ষার ২৫০ কক্ষ।
 ১৯টি অস্ত্রোপচার কক্ষ।
 ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবা।
 বছর ১০ লাখ রোগীর চিকিৎসা, এর মধ্যে গত বছর চার লাখ ২০ হাজার ছিল বিভিন্ন দেশের রোগী।
 বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের রোগীদের জন্য রয়েছে নিজ নিজ ভাষাভাষী গাইড।

ভিটামিন ট্যাবলেটের মিথ

সুস্থ থাকার জন্য ইউরোপে অ্যামেরিকায় ভিটামিন ট্যাবলেট খাওয়ার প্রবণতা খুব বেশি৷ এই ট্যাবলেট কিনতে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনও প্রয়োজন হয়না৷ ইদানীং গবেষকরা এর উপকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন৷

 

 

ডঃ নয়হাউজার অ্যামেরিকার সিয়াটেলের ফ্রেড হাচিনসন ক্যান্সার রিসার্চ সেন্টারের ক্যান্সার প্রতিরোধ কর্মসূচিতে কাজ করছেন৷ তিনি বলছেন: ‘‘ মাল্টিভিটামিন ট্যাবলেটে হয়ত দু ডজন উপাদান থাকতে পারে৷ কিন্তু টাটকা শাক সব্জি আর ফলে রয়েছে অন্য আরও শতাধিক উপকারী যৌগ৷ তার মানে একখানা মাল্টিভিটামিন ট্যাবলেট খেলে বহু উপকারী যৌগ থেকে বঞ্চিত হবে শরীর৷''

..

১৯৭০-এর দশকে নোবেলজয়ী মার্কিন বিজ্ঞানী লাইনাস পলিং এরকম একটা ধারণা সাধারণ মানুষের মাথায় ঢুকিয়ে দেন যে ভিটামিন সি খেলে ঠান্ডা লাগবেনা৷ উল্লেখ্য, বিজ্ঞানী পলিং চিকিৎসা বিজ্ঞানে এবং রসায়নেও নোবেল পুরস্কার পান৷ পলিং-এর তত্ত্ব এমনটাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে ড্রাগস্টোরগুলোর তাকে নানা জাতের ভিটমিন সি ট্যাবলেটের সমাহার৷ কিন্তু গবেষণার ফল থেকে ভিন্ন ফল পাওয়া গেছে৷ কয়েক দশক ধরে ১১,০০০ মানুষের ওপর চালিত পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ করেন গবেষকরা৷ ২০০৭ সালে তাঁরা এই সিদ্ধান্তে আসেন যে ভিটামিন সি ঠান্ডা প্রতিহত করেনি৷ অন্তত ঠান্ডা লাগার সময়কালটাকে কী কমিয়ে দিতে পারে ভিটামিন  সি ট্যাবলেট? তেমন কিছু কমেনা, বলছেন গবেষকরা৷ সাধারণত বয়স্কদের মধ্যে ঠান্ডা লাগার লক্ষণগুলো থাকে বছরে ১২ দিন৷ প্রতিদিন ভিটামিন সি পিল খেলে তা ১১ দিনে নামতে পারে৷ বাচ্চাদের ক্ষেত্রে তা বছরে ২৮ দিন থেকে ২৪ দিনে নামতে পারে৷ আর তাই গবেষকদের সিদ্ধান্ত: হ্রাসের পরিমাণ যেহেতু নগণ্য সেহেতু সারা বছর ধরে ট্যাবলেট খেয়ে যাওয়ার কোন যুক্তি নেই৷ তাছাড়া সর্দি কাশির লক্ষণগুলো দেখা দেয়ার পর ভিটামিন সি ট্যাবলেট খেলে তাতে কোন কাজই হবেনা বলে তাঁরা মনে করেন৷

 

মাল্টিভিটামিন ট্যাবলেট৷ এই একখানা ট্যাবলেটেই অনেক রকমের ভিটামিন৷ শীত জানান দিতে শুরু করলেই টপাটপ ভিটামিন সি ট্যাবলেট খেয়ে নেয়া৷ অন্য সময়ে মাল্টি ভিটামিন৷ কিন্তু সত্যিই কী কাজ হয়? ভিটামিন ট্যাবলেটের মিথটা নিয়ে সংশয়ী গবেষকরা৷

..

জার্মানিতে বলুন, ইউরোপের অন্যান্য দেশে বলুন বা অ্যামেরিকায় বলুন, ফার্মেসি, ড্রাগস্টোর আর সুপার মার্কেটের তাক ভিটামিন ট্যাবলেটে বোঝাই৷ ভিটামিন সি, ভিটামিন ডি, ভিটামিন ই, মাল্টিভিটামিন থরে থরে সাজানো৷ কোন ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন প্রয়োজন নেই৷ তাক থেকে শুধু তুলে নিন৷ ব্যস, মনে করলেন আপনার শরীরে ভিটামিনের ঘাটতি এই ট্যাবলেট পুষিয়ে দেবে৷ কিন্তু এমনটা মনে করার কোন কারণ নেই, বলছেন একদল মার্কিন গবেষক৷

এই তো গত বছর গবেষকরা দীর্ঘমেয়াদী এক গবেষণাকাজের ফল প্রকাশ করেন৷ এক লাখ ষাট হাজারেরও বেশি মধ্যবয়সি মহিলাদের ওপর চালানো হয় এই বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা৷ প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত থেকে দেখা গেছে, মাল্টিভিটামিন ট্যাবলেট খেয়েছেন যারা, তাঁদের স্বাস্থ্য যারা ট্যাবলেট খাননি, তাদের চেয়ে অপেক্ষাকৃত ভাল, এমন নয়৷ অন্তত ক্যান্সার, হার্টের রোগ বা স্ট্রোক-এর মত বড় বড় অসুখের কথা বিবেচনা করলে৷ গবেষণা রিপোর্টের লেখিকা ম্যারিয়ান নয়হাউজার বলেছেন: ‘‘এমনকি যেসব মহিলা যথেষ্ট ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার খাননি, তাঁরাও মাল্টিভিটামিন ট্যাবলেট খেয়ে উপকার পাননি৷''

..


স্বাস্থ্য বাংলা ২৪ ঘন্টা টি.ভি



আমাদের ডোনেট করুন

Currency:
Amount:
আপনার একটি ক্ষুদ্র দান আমাদের সেবা কে বাচিয়ে রাখতে সাহায্য করবে।
LiveZilla Live Help

সাম্প্রতিক মন্তব্য সমূহ